Menu

উপমন্যুকথা, সারাংশ, সরলার্থ, সরল উচ্চারণ, শব্দার্থ

একাদশ শ্রেণির সংস্কৃত বিষয়ের প্রথম সেমেস্টারের সিলেবাস-এ মহাভারতের ‘উপমন্যুকথা’ অংশটি পাঠ্য রচনা হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

উপমন্যুকথা : সারাংশ, সরলার্থ, সরল উচ্চারণ, শব্দার্থ

গল্পাংশ

আয়োদ ধৌম্য আর এক শিষ্য উপমন্যুকে আদেশ দিলেন, বৎস, তুমি আমার গো রক্ষা কর। উপমন্য প্রত্যহ গরু চরিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে এসে গুরুকে প্রণাম করতে লাগলেন। একদিন গুরু জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস, তুমি কি খাও? তোমাকে বেশ স্থূল দেখছি। উপমন্যু বললেন, আমি ভিক্ষা ক’রে জীবিকানির্বাহ করি। গুরু বললেন, আমাকে নিবেদন না ক’রে ভিক্ষান্ন ভোজন উচিত নয়। তার পর থেকে উপমন্যু, ভিক্ষাদ্রব্য এনে গুরুকে দিতেন। তথাপি তাঁকে পুষ্ট দেখে গুরু বললেন, তুমি যা ভিক্ষা পাও সবই তো আমি নিই, তুমি এখন কি খাও? উপমন্য বললেন, প্রথমবার ভিক্ষা করে আপনাকে দিই, তার পর আবার ভিক্ষা করি, তাতেই আমার জীবিকানির্বাহ হয়। গুরু বললেন, এ তোমার অন্যায়, এতে অন্য ভিক্ষাজীবীদের হানি হয়, তুমিও লোভী হয়ে পড়ছ। তারপর উপমন্যু একবার মাত্র ভিক্ষা ক’রে গুরুকে দিতে লাগলেন। গুরু আবার তাঁকে প্রশ্ন করলেন, বৎস, তোমাকে তো অতিশয় স্থূল দেখছি, এখন কি খাও? উপমন্যু বললেন, আমি এইসব গরুর দুধ খাই। গুরু বললেন, আমার অনুমতি বিনা দুধ খাওয়া তোমার অন্যায়। উপমন্যু তার পরেও স্থূলকায় রয়েছেন দেখে গুরু বললেন, এখন কি খাও? উপমন্যু বললেন, স্তন্যপানের পর বাছুররা যে ফেন উদ্‌গার করে, তাই খাই। গুরু বললেন, এই বাছুররা দয়া ক’রে তোমার জন্য প্রচুর ফেন উদ্‌দ্গার করে, তাতে এদের পুষ্টির ব্যাঘাত হয়; ফেন খাওয়াও তোমার উচিত নয়। গুরুর সকল নিষেধ মেনে নিয়ে উপমন্যু গরু চরাতে লাগলেন। একদিন তিনি ক্ষুধার্ত হয়ে অর্কপত্র (আকন্দপাতা) খেলেন। সেই ক্ষার তিক্ত কটু রুক্ষ তীক্ষ্ণ বস্তু খেয়ে তিনি অন্ধ হলেন এবং চলতে চলতে কূপের মধ্যে পড়ে গেলেন। সূর্যাস্তের পর উপমন্যু ফিরে এলেন না দেখে আয়োদ ধৌম্য বললেন, আমি তার সকল প্রকার ভোজনই নিষেধ করেছি, সে নিশ্চয় রাগ করেছে, তাকে খোঁজা উচিত। এই ব’লে তিনি শিষ্যদের সঙ্গে অরণ্যে গিয়ে ডাকলেন, বৎস উপমন্যু, কোথায় আছ, এস। উপমন্যু কূপের ভিতর থেকে উত্তর দিলেন, আমি অর্কপত্র ভক্ষণের ফলে অন্ধ হয়ে এখানে প’ড়ে গেছি। ধৌম্য বললেন, তুমি দেববৈদ্য অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের স্তব কর, তাঁরা তোমাকে চক্ষুষ্মান করবেন। উপমন্য স্তব করলেন। অশ্বিদ্বয় তাঁর নিকট আবির্ভূত হয়ে বললেন, আমরা প্রীত হয়েছি, তুমি এই পূপ (পিষ্টক) ভক্ষণ কর। উপমন্যু বললেন, গুরুকে নিবেদন না ক’রে আমি খেতে পারি না। অশ্বিদ্বয় বললেন, তোমার উপাধ্যায়ও পূর্বে আমাদের স্তব ক’রে পূপ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা গুরুকে নিবেদন না ক’রেই খেয়েছিলেন। উপমন্যু বললেন, আমি আপনাদের নিকট অনুনয় করছি, গুরুকে নিবেদন না ক’রে আমি খেতে পারব না। অশ্বিদ্বয় বললেন, তোমার গুরুভক্তিতে আমরা প্রীত হয়েছি; তোমার উপাধ্যায়ের দন্ত কৃষ্ণ লৌহময় হবে, তোমার দন্ত হিরন্ময় হবে, তুমি চক্ষুষ্মান হবে এবং শ্রেয়োলাভ করবে। উপমন্যু চক্ষু লাভ ক’রে গুরুর কাছে এলেন এবং অভিবাদন ক’রে সকল বৃত্তান্ত জানালেন। গুরু প্রীত হয়ে বললেন, অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের বরে তোমার মঙ্গল হবে, সকল বেদ এবং ধর্মশাস্ত্রও তুমি আয়ত্ত করবে। উপমন্যুর পরীক্ষা এইরূপে শেষ হ’ল।

আরো পড়ুন :  ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা 75 সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

“উপমন্যুকথা” রচনাটির উৎস – মহাভারতের “আদিপর্ব”-এর অন্তর্গত পৌষ্যপর্বাধ্যায় নামক দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে গৃহীত


সাহায্য — রাজশেখর বসুর মহাভারতের সারানুবাদ

উপমন্যুকথা-র সরলার্থ ও সন্ধিবিহীন সরল উচ্চারণ

  1. অথ-অপরঃ শিষ্যঃ-তস্য-এব-আয়োদস্য ধৌম্যস্য-উপমন্যুঃ-নাম। (তারপর আয়োদ ধৌম্যের অপর শিষ্য ছিল উপমন্যু।)
  2. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ প্রেষয়ামাস। (তাকে গুরু পাঠালেন অর্থাৎ গোরু রক্ষা করতে পাঠালেন।)
  3. বৎস্য-উপমন্যো গা রক্ষস্ব-ইতি। (বৎস্য উপমন্যু, গোরুগুলিকে রক্ষা করো।)
  4. স উপাধ্যায়-বচনাৎ-রক্ষদ্‌ গাঃ। (সে গুরুর আদেশ অনুযায়ী গোরুগুলি রক্ষা করলো।)
  5. স চ-অহনি গা রক্ষিত্বা দিবস-ক্ষয়ে-অভ্যাগম্য-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বা নমঃ-চক্রে। (এবং সে দিনের বেলায় গোরুগুলি রক্ষা করে দিনের শেষে গুরুর কাছে এসে দাঁড়িয়ে প্রণাম করলো।)
  6. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ পীবানম্‌-অপশ্যৎ। (উপাধ্যায় তাকে অর্থাৎ উপমন্যুকে বেশ মোটাসোটা দেখলেন।)
  7. উবাচ চ এনম্‌ — বৎস্য-উপমন্যো কেন বৃত্তিং কল্পয়সি। (এবং তাকে বললেন — বৎস্য উপমন্যু, কীভাবে তুমি বৃত্তি অর্থাৎ জীবিকানির্বাহ করো।)
  8. পীবান্‌-অসি দৃঢ়ম্‌-ইতি। (তুমি নিশ্চিত বেশ মোটাসোটা হয়েছ।)
  9. স উপাধ্যায়ং প্রতি-উবাচ ভৈক্ষেণ বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (সে গুরুকে জানালো — ভিক্ষা করে জীবিকানির্বাহ করি।)
  10. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — মম-অনিবেদ্য ভৈক্ষং ন-উপযোক্তব্যম্‌-ইতি। (তখন গুরু তাকে বললেন — আমাকে নিবেদন না করে ভিক্ষান্ন তোমার গ্রহণ করা উচিৎ হয় নি।)
  11.  স তথা-ইতি-উক্ত্বা পুনঃ-অরক্ষদ্‌ গাঃ। (‘তাই হবে’ এই বলে সে আবার গোরু রক্ষা করতে গেল।)
  12. রক্ষিত্বা চ-আগম্য তথা-এব-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বা নমঃ-চক্রে। (গোরুগুলি রক্ষা করে এবং আবার উপাধ্যায়ের সামনে এসে প্রণাম করলো।)
  13. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ-তথা-অপি পীবানম্‌-এব দৃষ্ট্বা-উবাচ — বৎস্য-উপমন্যো সর্বম্‌-অশেষতঃ-তে ভৈক্ষং গৃহ্নামি। (গুরু তাকে আগের মতোই মোটাসোটা দেখে বললেন — বাছা উপমন্যু, তোমার সব ভিক্ষান্ন যে আমি গ্রহণ করি।)
  14. কেন-ইদানীং বৃত্তিং কল্পয়সি-ইতি। (এখন কী উপায়ে জীবিকানির্বাহ করো?)
  15. স এবম্‌-উক্ত উপাধ্যায়েন প্রতি-উবাচ — ভগবতে নিবেদ্য পূর্বম্‌-অপরং চরামি। (গুরু এই কথা শুনে, সে বললো — আগে গুরুকে নিবেদন করি, তারপর আবার ভিক্ষায় বের হই।)
  16. তেন বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (এইভাবে আমি জীবিকানির্বাহ করি।)
  17. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — মা এষা ন্যায্যা গুরু-বৃত্তিঃ। (তাকে গুরু বললেন — এটা গুরুর প্রতি  সঠিক কর্তব্য বা সমুচিত কাজ হলো না।)
  18. অন্যেষাম্‌ অপি বৃত্তি-উপরোধং করোষি-এবং বর্তমানঃ লুব্ধঃ-অসি-ইতি। (অন্যদের জীবিকানির্বাহে তুমি বাধা সৃষ্টি করছো, বর্তমানে তাই করে তোমার লোভ হয়েছে।)
  19. স তথা-ইতি-উক্ত্বা গা অরক্ষৎ। (‘তাই হবে’ বলে সে গোরুগুলিকে রক্ষা করতে লাগলো।)
  20. রক্ষিত্বা চ পুনঃ-উপাধ্যায়-গৃহম্‌-আগম্য-উপাধ্যায়স্য-অগ্রতঃ স্থিত্বাঃ নমঃ-চক্রে। (গোরুগুলি রক্ষার পর গুরুগৃহে এসে গুরুর সামনে উপস্থিত হয়ে গুরুকে প্রণাম করলো।)
  21. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ-তথা-অপি পীবানম্‌-এব দৃষ্ট্বা পুনঃ-উবাচ — অহং তে সর্বং ভৈক্ষং গৃহ্নামি, ন চ-অন্যৎ-চরসি। (গুরু তাকে তা সত্ত্বেও মোটাসোটা দেখে বললেন — আমি সমস্ত ভিক্ষান্ন গ্রহণ করি, তুমি অন্য কোথাও ভিক্ষাগ্রহণে যাও না।)
  22. পীবান্‌-অসি। (তাও মোটাসোটা লাগছে।)
  23. কেন বৃত্তিং কল্পয়সি-ইতি। (কী উপায়ে বৃত্তি পালন করছো?)
  24. স উপাধ্যায়ং প্রতি-উবাচ — ভো এতাসাম্‌ গবাং পয়সা বৃত্তিং কল্পয়ামি-ইতি। (সে গুরুকে জানালো — হে গুরুদেব, আমি গোরুর দুধ দিয়ে জীবিকানির্বাহ করি।)
  25. তম্‌-উপাধ্যায়ঃ প্রতি-উবাচ — ন-এতৎ-ন্যায্যম্‌। (গুরু তাকে বললেন — এটা ন্যায় নয়।)
  26. পয় উপযোক্তুং ভবতো ময়া-অন্‌-অনুজ্ঞাতম্‌-ইতি। (আমার অনুমতি ছাড়া দুধ গ্রহণ তোমার ঠিক হয় নি।)
আরো পড়ুন :  একাদশ 1ম সেমেস্টার সংস্কৃত মডেল প্রশ্ন সেট, Class 11 Bengali 1st Semester

ক্রমশ…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!