Menu

ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক, নবম শ্রেণি, Class 9 History

Last Update : March 23, 2024

নবম শ্রেণির দ্বিতীয় অধ্যায় “ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক” অধ্যায়ে ১৭৮৯-এর ফরাসি বিপ্লবের নানাদিক আলোচিত হয়েছে। এই অধায়ে যা যা আলোচিত হয়েছে, তা সংক্ষেপে বললে এইরকম দাঁড়ায় –

  • ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফরাসি সমাজের অবস্থা
  • ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অবস্থা (রাজনৈতিক কারাগার)
  • ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের অর্থনীতি (ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর)
  • ফ্রান্সে প্রচলিত করব্যবস্থা
  • বাস্তিল দুর্গ ও তার পতন
  • স্টেটস জেনারেলের সভা ও ফরাসি সংবিধান সভা স্থাপন
  • সংবিধান রচনা করা
  • সামন্তপ্রথার বিলোপ ও মানুষ ও নাগরিকের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা
  • ফরাসি বিপ্লবে নারী, গ্রাম্য মানুষ, সাঁকুলোৎদের অবদান
  • বিপ্লবে জনচেতনার গুরুত্ব
  • ফরাসি বিপ্লবের তিনটি মূল আদর্শ। ইত্যাদি

উপর্যুক্ত বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আলোচিত হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন (বিকল্পধর্মী, সংক্ষিপ্ত, ব্যাখ্যাধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন)

ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক, নবম শ্রেণি, Class 9 History

প্রশ্নমান – ১

সঠিক উত্তর বেছে নাও : 

  1. ফ্রান্সকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলেছেন – -(নেপোলিয়ন/ অ্যাডাম স্মিথ/ চতুর্দশ লুই)।
  2. টেইলি হল (আয়কর/ ধর্মকর/ ভূমিকর)।
  3. ক্যাপিটেশন হল (উৎপাদন কর/ লবণ কর / আয়কর)।
  4. ভিংটিয়েমে হল (আয়কর/ লবণ কর / শ্রমকর)।
  5. করভি হল (লবণ কর/ বেগার প্রথা / মহামারি)।
  6. গ্যাবেলা হল (পথকর/ লবণ কর/ জলকর)।
  7. ফ্রান্সের একটি প্রত্যক্ষ কর হল। (টেইলি / করভি/ গ্যাবেলা)।
  8. ফ্রান্সের প্রথম সম্প্রদায় ছিল (কৃষকরা / শ্রমিকরা / যাজকরা)।
  9. ফ্রান্সের দ্বিতীয় সম্প্রদায় ছিল – (সাঁকুলোৎত্রা / অভিজাতরা / বুর্জোয়ারা)।
  10. সাঁকুলোৎরা ছিল ফ্রান্সের (প্রথম / দ্বিতীয়/ তৃতীয়) সম্প্রদায়।
  11. ফরাসি সমাজে অধিকারভোগী শ্রেণি ছিল। (যাজক ও অভিজাতরা / শ্রমিক ও কৃষকরা / বুর্জোয়া ও সাঁকুলোৎরা)।
  12. ফরাসি সমাজে অধিকারহীন শ্রেণির মধ্যে ছিল (বুর্জোয়ারা/যাজকরা / অভিজাতরা)।
  13. ‘দ্য স্পিরিট অফ লজ’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন (রুশো / ভলতেয়ার / মন্তেস্কু)।
  14. ‘কাঁদিদ’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন (রুশো / ভলতেয়ার / অ্যাডাম স্মিথ)।
  15. ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন (রুশো / দেনিস দিদেরো / অ্যাডাম স্মিথ)।
  16. ‘ফরাসি বিপ্লবের জনক’ বলা হয় (ষোড়শ লুইকে / অ্যাডাম স্মিথকে / রুশোকে)।
  17. স্টেটস্ জেনারেল হল ফ্রান্সের (রাজপ্রাসাদ / জাতীয় সভা / প্রধান সেনাপতি)।
  18. ষোড়শ লুইয়ের রাজত্বকালে স্টেটস্ জেনারেলের অধিবেশন আহ্বান করা হয় (১৬১৪/১৭৮৯/ ১৭৯৫) খ্রিস্টাব্দে।
  19. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের স্টেটস্ জেনারেলের প্রতিনিধি সংখ্যা ছিল. .(৫৪৫/১২১৪/১৭৮৯) জন।
  20. ‘টেনিস কোর্টের শপথ’ গৃহীত হয় (১৬১৪/ ১৭৮৯ / ১৭৯১) খ্রিস্টাব্দে।
  21. বাস্তিল দুর্গের পতন হয় ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের (১ জানুয়ারি/ ২১ ফেব্রুয়ারি / ১৪ জুলাই)।
  22. ফ্রান্সে সামন্ততন্ত্র বিলুপ্ত হয় ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের (২৩ জানুয়ারি/৪ আগস্ট / ১৫ আগস্ট)।
  23. ফ্রান্সে মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণা হয় ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের (২৬ জানুয়ারি / ২৬ আগস্ট / ৩১ ডিসেম্বর)।
  24. আইনসভা প্রণীত আইনকে যে ক্ষমতাবলে রাজা স্থগিত করতে পারতেন তাকে বলে (অ্যাসাইনেট / করভি / ভেটো)।
  25. অ্যাসাইনেট হল এক ধরনের (জাল/ কাগজের নোট / খাবার)।
  26. রাজা ষোড়শ লুই সপরিবারে অস্ট্রিয়া পালানোর চেষ্টা করেন (১৭৮৯ / ১৭৯১ / ১৭৯৫) খ্রিস্টাব্দে।
  27. রাজা ষোড়শ লুই অস্ট্রিয়া পালানোর সময় ধরে পড়ে যান ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দের (২১ জুন / ২৯ জুলাই/ ২৭ নভেম্বর)।
  28. জিরন্ডিন দলের প্রধান নেতা ছিলেন। (ব্রিসো / রুশো / রোবসপিয়র)।
  29. জেকোবিন দল ছিল (দক্ষিণপন্থী / মধ্যপন্থী / বামপন্থী)।
  30. জেকোবিন দলের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন (ভলতেয়ার / রোবসপিয়র/ মন্তেস্কু)।
  31. ‘দ্বিতীয় ফরাসি বিপ্লব’ ঘটে (১৭৯০/১৭৯১/ ১৭৯২) খ্রিস্টাব্দে।
  32. জেকোবিন দলের আরেক নাম ছিল (মাউন্টেন / ব্রিস্রোটিন / জিরন্ডিন)।
  33. ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলেছিল (১৩ মাস / ১২ বছর / ৪৫ দিন)।
  34. ফ্রান্সে সন্ত্রাসের শাসনের প্রধান নায়ক ছিলেন- -(রোবসপিয়র/ ষোড়শ লুই/চতুর্দশ লুই)।
  35. রোবসপিয়রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দের (২ জানুয়ারি / ৩ ফেব্রুয়ারি / ২৭ জুলাই)।
  36. রোবসপিয়রের শাসনকাল নামে পরিচিত (শ্বেত সন্ত্রাস / লাল সন্ত্রাস / হলুদ সন্ত্রাস)।
  37. ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় – (ক) ১৬৮৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। 
  38. ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সে রাজত্ব করতেন – (ক) বুরবোঁ বংশীয় রাজারা (খ) টিউডর বংশীয় রাজারা (গ) স্টুয়ার্ট বংশীয় রাজারা (ঘ) হ্যাপসবার্গ বংশীয় রাজারা।
  39. “আমিই রাষ্ট্র” (I am the State) উক্তিটি করেছিলেন – (ক) ষোড়শ লুই (খ) পঞ্চদশ লুই (গ) চতুর্দশ লুই (ঘ) লুই ব্ল‍্যাঙ্ক।
  40. ‘প্রজাপতি রাজা’ (Butterfly Monarch) নামে পরিচিত ছিলেন – (ক) পঞ্চদশ লুই (খ) লিওপোল্ড (গ) লুই ফিলিপি (ঘ) নেপোলিয়ন।
  41. “আমার পরেই মহাপ্রলয় আসছে” (After me, the deluge) উক্তিটি করেন – (ক) পঞ্চদশ লুই (খ) ষোড়শ লুই (গ) আলেকজান্ডার (ঘ) চতুর্দশ লুই।
  42. ‘অর্থলোলুপ নেকড়ে’ (Ravening Wolves) বলে ফরাসি জনগণের কাছে পরিচিত ছিলেন – (ক) ইনটেনডেন্টরা (খ) অভিজাতরা (গ) বুর্জোয়ারা (ঘ) যাজকরা।
  43. ‘তৃতীয় সম্প্রদায় কী?’ (What is the Third Estate) – পুস্তিকাটি কার লেখা – (ক) রুশো (খ) মন্তেস্কু (গ) আবে সিয়েস (ঘ) ভলতেয়ার।
  44. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে প্রথম সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের সংখ্যা ছিল – (ক) ১ লক্ষ ২০ হাজার (খ) ১ লক্ষ ৫০ হাজার (গ) ২ লক্ষ ৩০ হাজার (ঘ) ১ লক্ষ ৬০ হাজার।
  45. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে দ্বিতীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের সংখ্যা ছিল – (ক) ৩ লক্ষ ৫০ হাজার (খ) ১ লক্ষ ২০ হাজার (গ) ৩ লক্ষ ২০ হাজার (ঘ) ১ লক্ষ ৩০ হাজার।
  46. মন্তেস্কুর ‘দ্য স্পিরিট অফ লজ’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – (ক) ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে। 
  47. ফ্রাঁসোয়া মারি আরুয়ে কার প্রকৃত নাম – (ক) ভলতেয়ার (খ) ষোড়শ লুই (গ) মন্তেস্কু (ঘ) দিদেরো।
  48. ‘ফরাসি বিপ্লবের জনক’ বলা হয় – (ক) ভলতেয়ারকে (খ) মন্তেস্কুকে (গ) রুশোকে (ঘ) দান্তেকে।
  49. ‘দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন – (ক) অ্যাডাম স্মিথ (খ) কাঁদিদকে (গ) কুয়েসনে (ঘ রুশো। 
  50. ইংল্যান্ডে ‘গৌরবময় বিপ্লব’ সংঘটিত হয় – (ক) ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
  51. বিপ্লব পূর্ববর্তী ফ্রান্সের আর্থিক সংকট দূরীকরণের জন্য রাজা ষোড়শ লুই কর্তৃক নিযুক্ত প্রথম অর্থমন্ত্রী ছিলেন – (ক) ক্যালোন (খ) ব্রিয়া (গ) তুর্গো (ঘ) নেকার। 
  52. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে শেষ স্টেটস্ জেনারেলের অধিবেশন হয়েছিল – (ক) ৫০ বছর আগে (গ) ২০০ বছর আগে (খ) ১৭৫ বছর আগে (ঘ) ৬০ বছর আগে।
  53. ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের স্টেটস্ জেনারেল সভার মোট নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল – (ক) ১২১৪ জন (খ) ১০০০ জন (গ) ১২৫০ জন (ঘ) ৯০০ জন।
  54. স্টেটস্ জেনারেল সভায় যাজকদের প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল – (ক) ৩০৮ জন (খ) ৩৫০ জন (গ) ২৮৫ জন (ঘ) ৩৭০ জন।
  55. স্টেটস্ জেনারেল সভায় অভিজাতদের প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল – (ক) ২৮৫ জন (খ) ৩০৮ জন (গ) ৩৫০ জন (ঘ) ৩৬০ জন।
  56. স্টেটস্ জেনারেল সভায় তৃতীয় সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল – (ক) ৬২১ জন (খ) ৬৫০ জন (গ) ৭২০ জন (ঘ) ৭০০ জন।
  57. ফ্রান্সের সংবিধান রচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন – (ক) ষোড়শ লুই (খ) ভলতেয়ার (গ) মিরাবো (ঘ) রুশো।
  58. দ্বিতীয় লিওপোল্ড সম্রাট ছিলেন – (ক) ফ্রান্সের (খ) ইংল্যান্ডের (গ) অস্ট্রিয়ার (ঘ) জার্মানির।
  59. ফরাসি আইনসভার সদস্যসংখ্যা ছিল – (ক) ৫০০ জন (খ) ৬২১ জন (গ) ৭৪৫ জন (ঘ) ৮৩০ জন।
  60. আইনসভায় জিরন্ডিনদের প্রধান নেতা ছিলেন – (ক) রোবসপিয়র (খ) ব্রিসো (গ) লাফায়েৎ (ঘ) দাঁতো।
  61. আইনসভায় জেকোবিনদের সদস্যসংখ্যা ছিল – (ক) ১৩৬ জন (খ) ৩৫০ জন (গ) ৫০০ জন (ঘ) ৭৩০ জন। 
  62. ‘ব্রান্সউইক ঘোষণাপত্র’ জারি করা হয় – (ক) ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে।
  63. ‘সন্ত্রাসের শাসন’ শুরু হয় – (ক) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে।
  64. ‘সন্ত্রাসের শাসন’ শেষ হয় – (ক) ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে (গ) ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে। 
  65. সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে – (ক) ষোড়শ লুইয়ের মৃত্যুতে (খ) দাঁতো-র মৃত্যুতে (গ) রোবসপিয়রের মৃত্যুতে (ঘ) তুর্গো-র মৃত্যুতে।
আরো পড়ুন :  ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে লেখ


প্রশ্নমান – ২

বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের রাজনৈতিক কাঠামো

(১) লেতর-দ্য-ক্যাশে কী? 

  • ‘লেতর-দ্য-ক্যাশে’ ছিল ফরাসি বিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের রাজকীয় একটি  গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
  • এই পরোয়ানা অনুযায়ী যে-কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আটক করা যেত।

(২) লেতর-দ্য-গ্রেস কী 

  • লেতর-দ্য-গ্রেস’ ছিল ফরাসি বিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের রাজকীয় একটি মুক্তি।
  • এই পরোয়ানা অনুসারে অভিযুক্ত যে-কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া যেত। 

(৩) কে, কাকে ‘রাজনৈতিক কারাগার’ বলে উল্লেখ করেছেন? 

  • ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার বাস্তিল দুর্গ তথা ফ্রান্সের সংকটময় অবস্থাকে ‘রাজনৈতিক কারাগার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

(৪) বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের আইন কীরূপ ছিল? 

  • ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের আইনবিধি সমস্যা জর্জরিত ছিল। সমগ্র দেশের জন্য সঠিক বিধিবদ্ধ কোনো আইন ছিল না। অধিকাংশ সময় রাজার আদেশ বা অনুশাসন আইন হিসাবে গণ্য হত।

(৫) বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থা কেমন ছিল? 

  • ফ্রান্সে ত্রুটিপূর্ণ আইনব্যবস্থার মতোই বিচারব্যবস্থা ছিল পক্ষপাতযুক্ত ও দুর্নীতিগ্রস্ত।

(৬) ফ্রান্সকে রাজনৈতিক কারাগার বলার কারণ কী? 

  • ১৭৮৯ সালের আগে বাস্তিল দুর্গকে পণ্ডিত ভলতেয়ার ‘রাজনৈতিক কারাগার’ রূপে চিহ্নিত করেছেন।
  • ফ্রান্সে প্রচলিত ‘লেতর-দ্য-ক্যাশে’ এবং ‘লেত্র-দ্য-গ্রেস’ পরোয়ানাগুলির মাধ্যমে ইচ্ছানুযায়ী যে-কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, বিনাবিচারে আটক কিংবা মুক্তি দেওয়া যেত। এই সংকটময় রাজতন্ত্রকে লক্ষ্য করে ভলতেয়ার এমন কথা বলেছিলেন।

(৭) ষোড়শ লুই কে ছিলেন? তাঁর স্ত্রীর নাম কী? 

  • ষোড়শ লুই ছিলেন ফরাসি বিপ্লবকালীন ফ্রান্সের রাজা।
  • তিনি বুরবোঁ বংশের রাজা ছিলেন।
  • ষোড়শ লুইয়ের স্ত্রী ছিলেন মেরি আঁতোয়ানেৎ।

বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের অর্থনৈতিক কাঠামো

(১) ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সের কয়েকটি প্রত্যক্ষ করের নাম লেখ। 

  • ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সে তিনধরণের প্রত্যক্ষ কর ছিল। যথা,
    • তেইলি বা ভূমিকর;
    •  ক্যাপিটেশন বা উৎপাদন কর এবং
    •  ভিংটিয়েমে বা আয়কর।

(২) ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সের কয়েকটি পরোক্ষ করের নাম লেখ। 

  • ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সে প্রচলিত কয়েকটি পরোক্ষ কর ছিল–
    • টাইথ বা ধর্মকর;
    • গ্যাবেলা বা লবণকর
    • করভি বা বেগারশ্রম।

(৩) টাইথ কী? 

  • টাইথ হল ফ্রান্সে প্রচলিত ধর্মকর। ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের এই কর দিতে হত চার্চকে। উৎপন্ন ফসলের ১০ ভাগ ধর্মকর হিসেবে দিতে হত।

(৪) করভি কী? 

  • করভি বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সে প্রচলিত একটি পরোক্ষ কর।
  • করভি হল ‘বেগারশ্রম’। সামন্তপ্রভুদের খামারে কৃষকদের বিনা বেতনে কাজ করতে হত, যা করভি নামে পরিচিত।

(৫) অঁসিয়া রেজিম বা প্রাচীনতন্ত্র বলতে কী বোঝো? 

  • ‘অঁসিয়া রেজিম’ কথার অর্থ হল “পুরাতন-আমল”।
  • ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের আগে ফ্রান্সে যে বুঁরবো রাজবংশের আমল ছিল, তাকেই অঁসিয়া রেজিম আখ্যা দেওয়া হয়। এই সময়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল বৈষম্যমূলক।

(৬) ইনটেনডেন্ট কারা? 

  • ফ্রান্সে কর আদায়কারী একধরনের কর্মচারীরা ‘ইনটেনডেন্ট’ নামে পরিচিত ছিল।
  • এই কর্মচারীরা কর আদায়ের উদ্দেশে সাধারণ মানুষের উপর অকথ্য অত্যাচার করত।

(৭) 

প্রত্যক্ষ করপরোক্ষ কর
টেইলি বা সম্পত্তি করক্যাপিটেশন বা উৎপাদন করভিংটিয়েমে বা আয়করটাইথ বা ধর্মকরগ্যাবেলা বা লবণকরকরভি বা শ্রমকরএইদ্‌স বা ভোগ্যপণ্যের উপর করতেরাজ বা পথকর 

(৮) ফ্রান্সকে ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর বলার তিনটি কারণ লেখ।

  • ফ্রান্সে প্রচলিত করব্যবস্থা ছিল বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত।
  • অধিকাংশ জমির মালিক যাজক ও অভিজাতেরা হলেও তারা কোনো কর দিত না।
  • বাণিজ্যও দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল।

(৯) ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়কে কী কী কর দিতে হত?

  • ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়কে নানারকম কর দিতে হত, যথা – টেইলি, করভি, গ্যাবেলা, টাইথ ইত্যাদি।

বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সের সামাজিক কাঠামো

(১) ফ্রান্সে প্রথম সম্প্রদায় নামে কারা পরিচিত ছিল? 

  • ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯ খ্রি.) পূর্বে ফ্রান্সের সমাজকাঠামোয় যাজকেরা ছিলেন প্রথম সম্প্রদায় বা First Estate-এর অন্তর্গত।
    • এঁদের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার মাত্র ১%।
    • এঁদের যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল।
    • এঁদের কোনো কর দিতে হত না।

(২) ফ্রান্সে দ্বিতীয় সম্প্রদায় নামে কারা পরিচিত? 

  • ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সে অভিজাতরা দ্বিতীয় সম্প্রদায় বা Second Estate নামে পরিচিত ছিল।
    • প্রভাবশালী অভিজাতরা ছিলেন মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৫%।
    • এরা প্রজাদের কাছ থেকে নানারকম কর আদায় করতেন।
    • কৃষিজমির অধিকারী হলেও তারা ভূমিকর দিতেন না।
    • অসিধারী ও পোশাকি অভিজাত–এই দুই শ্রেণিতে অভিজাতরা বিভক্ত ছিল।

(৩) থার্ড স্টেট কারা? বা, ফ্রান্সে কারা তৃতীয় সম্প্রদায় নামে পরিচিত ছিল?

  • বিপ্লব-পূর্ব ফ্রান্সে যাজক ও অভিজাত সম্প্রদায় ছাড়া সমস্ত সাধারণ প্রজা তৃতীয় সম্প্রদায় বা Third Estate নামে পরিচিত ছিল।
    • এই সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল – বুর্জোয়া, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, কারিগর ইত্যাদি।
    • এঁদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৯৭ ভাগ ছিল।
    • সমাজে এরা ছিল সবথেকে অধিকারহীন, বঞ্চিত, অত্যাচারিত।

(৪) সাঁকুলোৎ কারা? 

  • প্রকৃতপক্ষে সাঁকুলোৎ-রা ছিলেন তৃতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
  • ‘সাঁকুলোৎ’ বলতে বোঝায় শহরবাসী খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ। দিনমজুর, কুলি, মালি, চাকর–এরাই সাঁকুলোৎ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ফরাসি বিপ্লবে এঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

(৫) বুর্জোয়া বলতে কী বোঝো? 

  • বুর্জোয়ারা ছিলেন তৃতীয় সম্প্রদায়ের অংশ।
  • সাধারণভাবে বুর্জোয়া বলতে বোঝায় শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ডাক্তার, শিক্ষক, আইনজীবী, দোকানদার প্রভৃতি শ্রেণির মানুষ। এঁদের তিন শ্রেণি লক্ষ করা যায়,
    • উচ্চ বুর্জোয়া (শিল্পপতি, ব্যবসায়ী)
    • মধ্য বুর্জোয়া (ডাক্তার, শিক্ষক, আইনজীবী)
    • নিম্ন বুর্জোয়া (দোকানদার)
আরো পড়ুন :  ফরাসি বিপ্লবের পশ্চাতে দার্শনিকের অবদান আলোচনা করো।

(৬) ফরাসি বিপ্লবকে ‘বুর্জোয়া বিপ্লব’ বলে কেন? 

  • সাধারণভাবে ফরাসি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বুর্জোয়ারা। তাছাড়া বিপ্লবের পর বুর্জোয়াদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এইসব কারণে অনেকেই ফরাসি বিপ্লবকে বুর্জোয়া বিপ্লব বলেছেন।  

(৭) ফরাসি সমাজে অধিকারহীন শ্রেণি বলতে কাদের বোঝায় এবং কেন?

  • ফরাসি সমাজে তৃতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ মানুষদের কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। সেইসব সাধারণ মানুষদের অধিকারহীন শ্রেণি বলা যায়। সাঁকুলোৎ এইধরণের অধিকারহীন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

(৮) প্যাট্রিশিয়ান ও প্লেবিয়ান কারা?

  • প্যাট্রিশিয়ান হল ফ্রান্সের আভিজাত ও অধিকারভোগী শ্রেণি।
  • অন্যদিকে প্লেবিয়ান হল ফ্রান্সে তৃতীয় শ্রেণীর অধিকারবঞ্চিত মানুষরা।

দৈব রাজতন্ত্রের ধারণা

(১) 

মন্তব্যকার
“আমিই রাষ্ট্র”চতুর্দশ লুই
“আমার ইচ্ছাই আইন”ষোড়শ লুই

(২) দৈব রাজতন্ত্রের ধারণা বলতে কী বোঝো?

  • প্রাক্‌-বিপ্লব ফ্রান্সের রাজারা ইশ্বাস করতেন তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নন বরং ঈশ্বরকর্তৃক প্রেরিত প্রতিনিধি। এই ধারণা ইউরোপে দৈব রাজতন্ত্র রূপে পরিচিত ছিল।

(৩) প্রজাপতি রাজা কাকে বলা হত?

  • ফ্রান্সের বুরবোঁ বংশের রাজা পঞ্চদশ লুই ‘প্রজাপতি রাজা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

দার্শনিকদের সমালোচনার ধারা

(১) ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন দার্শনিকের নাম লেখ। 

  • ১৭৮৯ সালে যে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল, তাতে কয়েকজন দার্শনিকের অবদান অবশ্য স্মরণযোগ্য। যথা–মন্তেস্কু, রুশো, ভলতেয়ার, ফিজিওক্রাট গোষ্ঠীর পণ্ডিত প্রমুখ।

(২) ফিজিওক্রাট কাদের বলে? 

  • ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে ফ্রান্সে একশ্রেণির অর্থনীতিবিদদের আবির্ভাব হয়েছিল। এরা অবাধ বাণিজ্য নীতির পক্ষে ছিলেন। এঁদের ফিজিওক্রাট বলা হয়।
  • অ্যাডাম স্মিথ এই গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ছিলেন।

(৩) দেনিস দিদেরো স্মরণীয় কেন? 

  • ফরাসি বিপ্লব-পূর্ব সময়ের একজন বিখ্যাত দার্শনিক হলেন দেনিস দিদেরো। ইনি রাষ্ট্র ও চার্চের অন্যায়ের কঠোর সমালোচনা করেন।
  • ৩৫ খণ্ডে সংকলিত বিশ্বকোষ রচনার অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন ইনি।

(৪) ফিজিওক্রাট গোষ্ঠীর মূল বক্তব্য কী ছিল? 

  • ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্‌কালে ফিজিওক্রাট গোষ্ঠীর দার্শনিকরা অর্থনৈতিক সমস্যার বিষয়টিকে সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন।
  • তাঁরা মনে করতেন, জমি হচ্ছে রাষ্ট্রের সম্পদের উৎস। সুতরাং, তারা কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি অবাধ বাণিজ্য ও শুল্কনীতির কথা বলেছিলেন। 

(৫) 

মন্তব্যকার
“জনগণই হল ক্ষমতার উৎস ও প্রকৃত শক্তির অধিকারী”রুশো
ষোড়শ লুই

অভিজাত বিপ্লব

(১) অভিজাত বিপ্লব কাকে বলে? 

  • ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই আর্থিক অবস্থা পুনরুজ্জীবনের জন্যে যাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়ের উপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। ফলত অভিজাতরা রাজার বিরোধিতা শুরু করেন। অভিজাতদের ইচ্ছানুযায়ী রাজা স্টেটস জেনারেলের সভাও ডাকতে বাধ্য হন। এই ঘটনাকে জর্জ লেফেভর “অভিজাত বিপ্লব” আখ্যা দিয়েছেন।

(২) অভিজাতরা কেন রাজার বিরোধিতা শুরু করেছিল? 

  • ফ্রান্সের আর্থিক সংকট নিবারণের জন্য ষোড়শ লুই যাজক ও অভিজাতদের উপর কর আরোপ করলে এবং অভিজাতদের থেকে পার্লামেন্ট অফ প্যারিসের ক্ষমতা কেড়ে নিলে অভিজাতরা রাজার বিরোধিতা শুরু করে।

(৩) ষোড়শ লুই নির্বাচিত ফ্রান্সের চারজন অর্থমন্ত্রীর নাম লেখ। 

  • ফ্রান্সের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য চারজন অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত করেছিলেন, তাঁরা হলেন–
    • তুর্গো, নেকার, ক্যালোন এবং ব্রিয়াঁ।

বাস্তিল দুর্গের পতন

(১) টেনিসকোর্টের শপথ কী?

  • ১৭৮৯ সালের ২০ জুন টেনিস কোর্টের শপথ গৃহীত হয়েছিল।
  • ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে আবে সিয়েস ও মিরাবোর নেতৃত্বে পাশের টেনিস কোর্টে সমবেত হয়ে নতুন সংবিধান রচনার শপথ নেয়। এই ঘটনা ‘টেনিস কোর্টের শপথ’ নামে পরিচিত। 

(২) প্যারি কমিউন কী?

  • প্যারি কমিউন এক ধরনের পৌর পরিষদ।
  • বাস্তিল দুর্গের পতনের পর বিপ্লবী জনগণ নিজেদের মধ্যে থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করে যে অস্থায়ী পৌর-পরিষদ গঠন করেছিল, তা প্যারি কমিউন নামে পরিচিত।

(৩) কোন ঘটনা সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ড নামে পরিচিত?

  • ১৭৯২ সালে সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল।
  • ফ্রান্সের বিপ্লবী-কমিউন কয়েক হাজার রাজতন্ত্রের সমর্থকদের বন্দি করে কারাগারে আটকে রাখে। পরে উত্তেজিত বিপ্লবী জনতা কারাগার আক্রমণ করে হাজারেরও অধিক বন্দি হত্যা করে। সেপ্টেম্বর মাসের এই ঘটনা ‘সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ড’ নামে পরিচিত। 

(৪) অ্যাসাইনেট কী?

  • অ্যাসাইনেট হল ফরাসি সভা দ্বারা প্রবর্তিত একধরনের কাগজের মুদ্রা।
  • ফ্রান্সের আর্থিক সমস্যা মেটাতে গির্জার ভূসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার পরিবর্তে কাগজের নোট চালু করে সংবিধান সভা।

(৫) স্টেটস জেনারেল কী? বা জাতীয় সভা কী?

  • স্টেটস জেনারেল হল ফ্রান্সের জাতীয় সভা।
  • দীর্ঘ ১৭৫ বছর পর ১৭৮৯ সালে রাজা ষোড়শ লুই স্টেটস জেনারেলের অধিবেশন ডাকেন ফ্রান্সের আর্থিক সমস্যা বিষয়ে আলোচনার জন্য।

(৬) স্টেটস জেনারেলের অধিবেশনে তৃতীয় সম্প্রদায়ের দাবি কী ছিল?

  • তৃতীয় সম্প্রদায়ের দাবি ছিল : ক) তিন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ অধিবেশন করতে হবে। খ) সব সদস্যের মাথাপিছু ভোটের অধিকার দিতে হবে।

(৭) ব্রান্সউইক ঘোষণা কী?

  • ব্রান্সউইক হলেন প্রাশিয়ার সেনা-অধ্যক্ষ।
  • ফ্রান্সের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে প্রাশিয়ার রাজার নির্দেশে ব্রান্সউইক ঘোষণা করেন যে, ফরাসি রাজপরিবারের কারও নিরাপত্তা যদি বিঘ্নিত হয় তবে তিনি প্যারিস ধ্বংস করে দেবেন। এই অপমানজনক ঘোষণা ‘ব্রান্সউইক ঘোষণা’ নামে পরিচিত।

(৮) রাজা ষোড়শ লুইয়ের মৃত্যু কীভাবে হয়?

  • সন্ত্রাসের রাজত্বের সময় রোবসপিয়ের-এর নির্দেশে এবং জাতীয় সভায় ভোটদানের ভিত্তিতে ১৭৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি গিলোটিন যন্ত্রে রাজাকে হত্যা করা হয়।

(৯) পিলনিজের বা পিলনিৎসের ঘোষণাপত্র কী?

  • ১৭৯১ সালের আগস্ট মাসে পিলনিজ ঘোষণাপত্র প্রচারিত হয়।
  • লিওপোল্ড ও দ্বিতীয় ফ্রেডারিখ উইলিয়াম পিলনিজ নামক স্থানে মিলিত হয়ে এই ঘোষণায় বলেন যে, ইউরোপের অন্যান্য দেশ ফ্রান্সের রাজতন্ত্রের সমর্থনে এগিয়ে আসুক।

(১০) ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা কোন বিপ্লব?

  • ফরাসি বিপ্লব যে যে বিপ্লব থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিল তা হল : ক) ১৬৮৮ সালের ইংল্যান্ডের গৌরবময় বিপ্লব, খ) ১৭৯৩-এর আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন।

(১১) ফ্রান্সের সংবিধান সভা গঠনে কারা সক্রিয় ভূমিকা নেয়?

  • ফ্রান্সের সংবিধান সভা গঠনে সর্বাধিক ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তৃতীয় সম্প্রদায়ের বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃবৃন্দগণ। এক্ষেত্রে আবে সিয়েস, মিরাবো, লাফায়েৎ প্রমুখ নেতৃবৃন্দের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

(১২) পাদুয়ার ঘোষণা কী?

  • ১৭৯১ সালের ৬ জুলাই এই ঘোষণা জারি হয়।
  • অস্ট্রিয়াস সম্রাট লিওপোল্ড পাদুয়া নামক স্থান থেকে জারি একটি ঘোষণায় ফরাসি রাজতন্ত্রের সপক্ষে ইউরোপীয় রাজন্যবর্গকে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। এই ঘোষণা পাদুয়ার ঘোষণা নামে পরিচিত।  

(১৩) ‘সিভিল কন্সটিটিউশন অফ দ্য ক্লর্জি’ কী?

  • সংবিধান সভা কর্তৃক ১৭৯১ খ্রি. এই আইন বিধিবদ্ধ হয়।
  • এই ‘ধর্মযাজকদের সংবিধান’ নামক আইন দ্বারা গির্জার উপর থেকে পোপের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয় ও চার্চ হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের পরিচালিত একটি দপ্তর।

(১৪) ফরাসি সংবিধান সভা নাগরিকদের কী কী ভাগে ভাগ করেছিল?

  • ফরাসি সংবিধান সভা নাগরিকদের দু’ভাগে বিভক্ত করেছিল – সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়।
  • নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তির ব্যক্তিরা সক্রিয় নাগরিক ছিল, যারা ভোটাধিকার লাভ করেছিল। অন্যদিকে সম্পত্তিহীন ব্যক্তিগণ নিষ্ক্রিয় নাগরিক নামে পরিচিত ছিল। 
আরো পড়ুন :  ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন, মান - ৪, নবম শ্রেণি, Class 9 History

বিপ্লব রক্ষার আহ্বান

(১) সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো? বা, লাল সন্ত্রাস কী? বা জ্যাকোবিন শাসন কী ছিল?

  • ফ্রান্সের জ্যাকোবিন দল ১৭৯৩ সালের জুন থেকে ১৯৭৪ সালের জুলাই – এই তেরো মাস ফ্রান্সে যে স্বৈরশাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল, তা সন্ত্রাসের রাজত্ব বা লাল সন্ত্রাস বা জ্যাকোবিন শাসন নামে পরিচিত।
  • এইসময় জ্যাকোবিনরা ভীতি প্রদর্শন, হত্যাকান্ড ও সন্ত্রাস চালিয়েছিল।

(২) শ্বেত সন্ত্রাস বলতে কী বোঝো?

  • ফ্রান্সের অভ্যন্তরে জ্যাকোবিন শাসনে-বিরোধী কার্যকলাপ ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছিল। ফ্রান্সের জ্যাকোবিন-বিরোধী কিছু গোষ্ঠী লাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দিতে জ্যাকোবিন নেতাদের হত্যা করতে শুরু করে। এই ঘটনা শ্বেত সন্ত্রাস নামে পরিচিত।

(৩) রোবসপিয়ের কে?

  • রোবসপিয়ের ছিলেন ফ্রান্সের জ্যাকোবিন দলের নেতা।
  • তিনি ছিলেন সন্ত্রাসের শাসনের মূল পরিচালক। তাঁর মৃত্যু হয় গিলোটিনে ১৭৯৪ সালের জুলাই মাসে। তাঁর মৃত্যুর পরপরই সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে।

(৪) ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন ফ্রান্সের দুটি রাজনৈতিক দলের নাম লেখ।

  • ফরাসি বিপ্লব চলাকালীণ ফ্রান্সের উল্লেখযোগ্য দুটি রাজনৈতিক দল হল : জ্যাকোবিন ও জিরন্ডিন।
  • এছাড়া অন্য একটি উল্লেখযোগ্য দল ছিল ফিউল্যান্ট।

(৫) জেকোবিন কাদের বলা হয়?

  • ফ্রান্সের জ্যাকোবিন দলের সদস্যদের জ্যাকোবিন বলা হত। এরা ছিলেন উগ্র বামপন্থী দল। এরা ফ্রান্সে কয়েকবছর শাসন করেছিল। এই দলের উল্লেখযোগ্য একজন নেতা হলেন রোবসপিয়ের।

(৬) জিরন্ডিন কারা?

  • ফ্রান্সের আইনসভার একটি উল্লেখযোগ্য বামপন্থী দল হল জিরন্ডিন দল। এই দলের সমর্থকরা জ্যাকোবিনদের মত অতটা উগ্র ছিল না। ব্রিসো এই দলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

(৭) সন্ত্রাসের শাসনের দু’জন পরিচালকের নাম লেখ।

  • সন্ত্রাসের শাসনের দু’জন প্রভাবশালী নেতা হলেন – রোবসপিয়ের এবং দাঁতো।

(৮) থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া কী?

  • ১৭৯৪ সালের ২৮ জুলাই (১০ থার্মিডোর) রোবসপিয়ের হত্যার পর সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে। ফ্রান্সের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এই মাস ছিল থার্মিডোর। তাই ন্যাশনাল কনভেনশন দ্বারা পরিচালিত পরবর্তী ১৪ মাসের শাসনকাল থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া নামে পরিচিত।
  • সময়কাল জুলাই, ১৭৯৪ থেকে অক্টোবর, ১৭৯৫ সাল।

(৯) ‘ডিকটেটরশিপ অফ দ্য ডিসট্রেস’ কোন ঘটনাকে বলে?

  • ফ্রান্সে সন্ত্রাসবাদী শাসনকালকে (১৭৯৩ সালের জুন থেকে ১৭৯৪-এর জুলাই পর্যন্ত) ‘ডিকটেটরশিপ অফ দ্য ডিসট্রেস’ বলা হয়।
  • বৈদেশিক আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত বলে এমন নামে অভিহিত করা হয়েছে।

(১০) গিলোটিন কী?

  • গিলোটিন হল ফ্রান্সের সন্ত্রাসের শাসনে ব্যবহৃত শিরশ্ছেদ করার বিশেষ একটি যন্ত্র।
  • গিলোটিনের আবিষ্কর্তা হলেন ড. গিলোটিন।

(১১) দ্বিতীয় ফরাসি বিপ্লব বলতে কী বোঝ?

  • ১৭৯২ খ্রি. ১০ আগস্ট জ্যাকোবিনদের নেতৃত্বে ফ্রান্সের ক্ষিপ্ত জনতা টুইলারিজ রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে রাজার দেহরক্ষী দলকে হত্যা করে। এই ঘটনাকেই ঐতিহাসিক লেফেভর ‘দ্বিতীয় ফরাসি বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন। 

(১২) টিপু সুলতান ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গে কীভাবে জড়িত?

  • ফরাসি বিপ্লবে সঙ্গে যুক্ত জ্যাকোবিন ক্লাবের সঙ্গে পরাধীন ভারতের মহীশূর রাজ্যের অধিপতি টিপু সুলতানের যোগাযোগ ছিল। তিনি এই ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ইংরেজ বিরোধিতার জন্য টিপু সুলতান ফ্রান্সের অনুগামী ছিলেন। ফরাসি বিপ্লবকে সমর্থন জানাতে টিপু সুলতান Tree of Liberty বা স্বাধীনতার বৃক্ষ রোপণ করেছিলেন।

জনগণের বিপ্লব

(১) ফরাসি বিপ্লবে নিস্ক্রিয় নাগরিক কাদের কেন বলা হত?

  • রাজনৈতিক অধিকারহীন শ্রেণি – যারা আয়কর দিতে না পারার কারণে ভোটাধিকার পেত না এবং ফরাসি সমাজের নারীরা ‘নিষ্ক্রিয় নাগরিক’ হিসাবে গণ্য হত।
  • ফরাসি সংবিধান সভা ফ্রান্সের নাগরিককে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছিল – সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়। 

(২) ফরাসি বিপ্লবে  কয়েকজন নারী নেতৃত্বের নাম লেখ? 

  • ফরাসি বিপ্লবের কয়েকজন নেত্রী হলেন – ডি-আর্জন্ট (জিরন্ডিন), পাওলিন লিওন, মাঁদাম রোনাল্ড (জ্যাকোবিন) প্রমুখ।

(৩) কাকে কেন পুরাতনতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা আখ্যা দেওয়া হয়?

  • ‘মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণাপত্র’কে পুরাতনতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা বলা হয়েছে।
  • প্রকৃতপক্ষে এই ঘোষণাপত্রের দ্বারা মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এই ঘোষণাকে পুরাতন রাজতন্ত্রের মৃত্যু পরোয়ানা বলা যায়।   

(৪) মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ঘোষণার সীমাবদ্ধতা লেখ।

  • ১৭৮৯ সালের ২৬ আগস্ট ফরাসি সংবিধান সভা কর্তৃক যে ‘মানুষ ও নাগরিকের অধিকার’  ঘোষিত হয় তার উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতার দিক হল : এই অধিকার ঘোষণায় বুর্জোয়াদের স্বার্থ বেশি লক্ষিত হয়। তাছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য সম্পর্কে কিছু বলা হয় না।  

(৫) মহা আতঙ্ক কী? Great Fear কী?

  • বাস্তিল দুর্গের পতনের পর ফ্রান্সের গ্রামাঞ্চলে গুজব ছড়িয়ে যায় যে, সামন্তপ্রভু ও অভিজাতদের ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনি তাঁদের শায়েস্তা করতে আসছে। এই মিথ্যা রটনাই মহা আতঙ্ক বা Great Fear নামে পরিচিত।

ফরাসি বিপ্লবের আদর্শ

 (১) ফরাসি বিপ্লবের তিনটি মূল আদর্শ কী কী? 

  • ফরাসি বিপ্লবের তিনটি মূল আদর্শ হল – সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা।
  • ফরাসি বিপ্লবের এই আদর্শ সমকালীন ইউরোপে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।

(২) নতুন ফরাসি সংবিধানের উল্লেখযোগ্য দুটি দিক লেখ।

  • অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক করব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়।
  • জনগণের সকলকে ভোটাধিকারের না দিয়ে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় – এই দুভাগে ভাগ করা হয়। 

প্রশ্নমান – ৪


প্রশ্নমান – ৮


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!